আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মানব দেহকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও আসল মানব সত্তার মধ্যে এমন রুহানি শক্তি দান করেছেন, যার ফলে মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক অদম্য বাসনা জাগে। দরুদ ও সালাম ওই রসুলের প্রতি যিনি আল্লাহকে ভালোবাসার বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করে মানুষকে এ পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন। হে আল্লাহর বান্দাগণ, কিসের টানে সব কাজকর্ম ফেলে রেখে আল্লাহর ঘরে হাজির হয়েছেন? নিশ্চয়ই আল্লাহর সঙ্গে এমন কোনো সম্পর্ক আছে বলেই আপদে-বিপদে আমরা তারই দুয়ারে ধরনা দিই। দুনিয়া ও আখিরাতে তাকেই আমরা আশ্রয় মনে করি। তিনি ছাড়া আর কোনো শক্তি নেই যার ওপর সামান্য ভরসা করা চলে। তাই সেই আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কীরূপ হওয়া উচিত তা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা আল্লাহর প্রতি ইমান রাখে তারাই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মাথা ঘামায়। তাদের জন্যই আল্লাহ স্বয়ং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহপাক আমাদের অনেক মহব্বত করে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। ফেরেশতাগণ আপত্তি করা সত্ত্বেও আল্লাহপাক বিশেষ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ফেরেশতাগণের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করেছেন। যেমনটি সূরা বাকারার ৩১-৩২নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহপাক অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন ‘যারা ইমানদার আল্লাহর প্রতি রয়েছে তাদের মজবুত ভালোবাসা’ (সূরা বাকারা-১৬৫) আল্লাহর প্রতি বান্দার এই মহব্বত সহজাত নয় বরং ইখতিয়ারী বা ঐচ্ছিক। যে আখিরাতে সাফল্য লাভ করতে চায় এবং দুনিয়াতে আল্লাহর মর্জি মতো জীবনযাপন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সে অবশ্যই সবকিছুর ওপর আল্লাহর ভালোবাসাকে অগ্রাধিকার দেবে। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা শুধু আত্মিক অনুভূতির বিষয় নয় বা কেবল কর্মশূন্য জিকিরের মাধ্যমে এ ভালোবাসার দাবি পূরণ হয় না। আল্লাহর ভালোবাসার বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে রসুল (স.)-কে ভালোবাসা ও তাকে অনুকরণ করা। যেমন আল্লাহপাক ইরশাদ করেন- ‘হে রসুল আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস তাহলে আমার অনুসরণ কর— তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সূরা আলে ইমরান ৩১)। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন— তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে সে ইমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করে। ১. যার কাছে আল্লাহ ও তার রসুল (সা.) দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। ২. যে মানুষকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। ৩. যে কুফরির দিকে ফিরে যাওয়াকে তেমন অপছন্দ করে যেমন অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে। ভালোবাসা স্বাভাবিকভাবেই দাবি করে যে, যাকে ভালোবাসা হয় তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাকে ছাড়া অন্যদের দাবি পূরণের পরোয়া করবে না বরং তা প্রত্যাখ্যান করবে। আল্লাহর প্রতি বান্দার মহব্বতের প্রকাশ ঘটে তার নির্দেশ অনুসরণ এবং নিষেধকে বর্জনের মধ্য দিয়ে। আল্লাহ আমাদের রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে মহব্বতের সম্পর্ক কায়েম করার তাওফিক দান করুন। আমিন প্রাক বয়ান পেশ : মুফতি মাওলানা ওসমান গনি সালেহী, মুহাদ্দিস, দারুল নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা, ঢাকা।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


ইসলাম ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন