রুবেলের এক ওভারেই বদলে গেল সব

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চার উইকেটে ম্যাচ জয় করে নিদাহাস ট্রফি ঘরে তুলে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন দিনেশ কার্তিক। সৌম্য সরকারের তার শেষ ওভারে একটি উইকেট শিকার করে জয়ের জানান দিলেও আগের ওভারে রুবেল হোসেনের দেওয়া ২২ রান পাল্টে দিয়েছে পুরো ম্যাচের চিত্র। মূলত তার ওই ওভারেই বদলে গিয়েছিল ম্যাচটি। শেষ ওভারটি করে সৌম্য সরকারের মাঠে গড়িয়ে কাঁদার চিত্রটি জানান দেয় পুরোনো ইতিহাস। এর আগে আরও চারবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এবারই প্রথম দেশের বাইরে কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে খেলেছে টাইগাররা। কিন্তু আবারও স্বপ্ন ভঙ্গ। এবারও পারেনি বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ১৬৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। ওপেনিংয়ে নেমে রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান। তবে দলীয় ৩২ রানের মাথায় সাকিব ফিরিয়ে দেন ১০ রান করা শিখর ধাওয়ানকে। রুবেলের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সুরেশ রায়না। আম্পায়ার উল্টো ওয়াইডের সংকেত দেন। মুশফিক-সাকিবের প্রতিবাদে পরে থার্ড আম্পায়ারের সাহায্য নেন আম্পায়ার। তাতে টিভি রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। রায়না বিদায় নেন ০ রানে। ইনিংসের দশম ওভারে রুবেল ফেরান লোকেশ রাহুলকে। দলীয় ৮৩ রানের মাথায় বিদায় নেওয়ার আগে রাহুল ১৪ বলে দুই চার-এক ছয়ে করেন ২৪ রান। ১৪তম ওভারে রোহিত শর্মাকে বিদায় করেন নাজমুল অপু। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় ভারত তৃতীয় উইকেট হারায়। রোহিত শর্মা বিদায়ের আগে ৪২ বলে চারটি বাউন্ডারি আর তিনটি ওভার বাউন্ডারিতে করেন ৫৬ রান। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ এসে তুলে নেন ২৭ বলে ২৮ রান করা মনিষ পান্ডেকে। সেই ওভারে মাত্র ১ রান দেন মোস্তাফিজ। রুবেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম তিন বলে ১৬ রান নেন নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক। সেই ওভারে ওঠে ২২ রান। শেষ ওভারে দরকার হয় ১২ রানের। সৌম্য সরকার পঞ্চম বলে ফিরিয়ে দেন ১৭ রান করা বিজয় শংকরকে। শেষ বলে ৫ রান দরকার হলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতান দিনেশ কার্তিক। ৮ বলে দুটি চার আর তিনটি ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ২৯ রানে। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তবে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও ব্যাতিক্রম ছিলেন সাব্বির রহমান। তার হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৬৬ রান। ৫০ বলে ৭৭ রান করেন সাব্বির। তার ইনিংসে ছিল ৪টি ছয় ও ৭টি চারের মার। শেষের দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৭ বলে ১৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে সম্মানজনক পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ ২১ ও তামিম ১৫ রান করেন। ভারতের হয়ে সর্ব্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন যুভেন্দ্র চাহাল। দুটি উইকেট নেন জয়দেব উনাদকাত। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৬৮ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এদিন ওপেনিংয়ে নামেন তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন লিটন । ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে টপএজ হয়ে সুরেশ রায়নার হাতে ধরা পড়ার আগে লিটন এক ছক্কায় ৯ বলে করেন ১১ রান। দলীয় ২৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরের ওভারেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে দুর্দান্ত এক ক্যাচে শারদুল ঠাকুরের হাতে ধরা পড়েন তামিম ইকবাল। স্কোরবোর্ডে কোনো রান না উঠতেই ফেরেন তামিম। যুভেন্দ্র চাহালের বলে আউট হওয়ার আগে তামিম ১৩ বলে একটি বাউন্ডারিতে করেন ১৫ রান। একই ওভারে ব্যক্তিগত ১ রান করে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। ১১ বলেই বাংলাদেশ হারায় টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪০/৩। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান। এগারোতম ওভারের প্রথম বলেই বিদায় নেন ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। চাহালের বলে বিজয় শংকরের হাতে ধরা পড়ার আগে মুশফিক ১২ বলে করেন ৯ রান। দলীয় ৬৮ রানে বাংলাদেশ হারায় চতুর্থ উইকেট। ১৪ ওভারে আসে দলীয় শতক। ১৫তম ওভারে সিঙ্গেল রান নিতে সাব্বির-মাহমুদউল্লাহর ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন মাহমুদউল্লাহ। ১০৪ রানে বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায়। বিদায়ের আগে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে দুটি চারে ২১ রান। সাব্বিরের সঙ্গে জুটি গড়েন ৩৬ রানের। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের কাছে হারলেও টানা তিন জয়ে ফাইনালে ওঠে টিম ইন্ডিয়া। দেশের বাইরে থেকে প্রথম কোনো শিরোপা জিতে আনার স্বপ্নপূরণের হাতছানি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আবারও তা বিফলে গেল। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় হাইভোল্টেজ এই ফাইনালটি।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


খেলা ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন