রোজার মাসে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশন বন্ধ

রোজায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ভবনে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুম ও আসন্ন রমজান মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিতরণকারী সংস্থা, পেট্রোবাংলা, এফবিসিসিআই ও দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বর্তমানে সিএনজি স্টেশনগুলোতে বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে। রোজায় অর্থাৎ মে মাসের মাঝামাঝি থেকে তা আরও দুই ঘণ্টা বাড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
< br> সভায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আগামী ২০ মে’র পর সঞ্চালন লাইনে আমদানি করা এলএনজি যুক্ত হলে ১১শ এমএমসিএফডি গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা যাবে।

সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার তথ্য দিয়ে বলেন, “বিদ্যুতের উপাদন যথেষ্ট বেড়েছে। এ মাসে আরও এক হাজার মেগাওয়াট যুক্ত হবে। এবারের রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

অন্য বছর রোজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপণি বিতানগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিরুৎসাহিত করা হলেও এবার তাই ব্যতিক্রমী সুর প্রতিমন্ত্রীর কণ্ঠে। রোজায় দোকানপাটগুলোতে আলোকসজ্জা নিয়ে আমাদের অতটা আপত্তি নেই। কেননা এখন বিদ্যুতের পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে। তবে আপনারা পরিমিত আলোকসজ্জা করবেন।” বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, “শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে রোজায় রাত ৮টার মধ্যে বিপণি বিতান বন্ধের বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে এবিষয়ে আমরা কিছু বলছি না। ”

রোজায় সারা ঢাকা শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ্বাস দিলেও পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় সাব স্টেশনের অভাবে সমস্যা হতে পারে বলে আভাস দেন নসরুল হামিদ। “পুরান ঢাকা এলাকায় সাব স্টেশন স্থাপনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে আমরা বলে রেখেছি। তারা এখনও জায়গা দিতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা নগর কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে চাপ দিতে পারেন।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দোকান মালিক সমিতির নেতাদের উদ্দেশে বলেন, বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলতি মাসেই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হবে। কোনো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আর চলতে দেওয়া হবে না।বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে- পিক আওয়ারে রি-রেলিং মিল, ওয়েল্ডিং মেশিন, ওভেন, ইস্ত্রির দোকানসহ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সরঞ্জাম বন্ধ রাখা, ইফতার ও সেহরির সময় শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এসির ব্যবহার সীমিত রাখা।

ইফতার, তারাবি ও সেহেরির সময় লোডশেডিং না করতে বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


বাংলাদেশ ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন