কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহবায়ক লুৎফুন নাহার লুমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহবায়ক লুৎফুন নাহার লুমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তার আটকের কারণ গত ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ধর্ষণের গুজব ছড়ানো বলে জানিয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
সেদিন শিক্ষার্থীদের রাস্তায় অবস্থানের সময় হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে বেশ কয়েকজন বলতে থাকে, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ধর্ষণ, হত্যা করা হচ্ছে।
এ সময় বোরকা পড়া এক তরুণী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘জিগাতলাতে তাদের পার্টি সেন্টারে অনেক অনেক মেয়েকে রেপ করা হচ্ছে। প্লিজ কিছু করেন।’
মেয়েটির মুখ এমনিতেই ঢাকা ছিল। কিন্তু রেকর্ডিংয়ের সময় তার সেই মুখেও ক্যামেরা ধরা হয়নি।
চিৎকার করে ওই তরুণী যা যা বলতে থাকেন তার সব বুঝা যায় না। যতটুকু বুঝা যায় সেটুকু হলো, ‘ওরা গুলি করতেছে, ওরা কি ছাত্র? ওরা কি আদৌ কোনো ছাত্র?’
এটি যখন রেকর্ড করা হচ্ছিল, তখন দুই তরুণকে পেছন থেকে দেখা যায়। তবে তারা ক্যামেরার সামনে আসেনি। ফলে তাদের চেহারা দেখা যায়নি।
মেয়েটি বলতে থাকেন, ‘জিগাতলা পার্টি সেন্টারে প্রতিটা ছাত্ররে ঢুকাইয়া ঢুকাইয়া গুলি করতাছে, প্লিজ।’
মেয়েটি দাবি করতে থাকেন, সেখানে সাধারণ মানুষসহ অনেকের রক্ত ঝরেছে এবং তাতে তিনি নিজেও ছিলেন। তবে কার্যালয়ের ভেতরে আহত হলে তিনি কীভাবে বের হলেন, সেটা বলেননি।
বোরকা পরা মেয়েটির মুখও ভালোভাবে দেখানো হয়নি ভিডিওতে। তবে এটি লুনা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছিল।
বুধবার ভোরে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি তদন্ত দল ও বেলকুচি থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের ক্ষিদ্র চাপড়ির চর থেকে লুমাকে গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক। জানান, তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন বেলকুচির ক্ষিদ্র চাপড়ির চরে দাদার বাড়িতে পালিয়ে ছিলেন।
লুমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশের বিশেষ দল তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে বলেও জানান ওসি।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


বাংলাদেশ ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন