খুনী ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য ও হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল হোসেন গং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুরের শিবচরের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনদের ঐক্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, খুনী ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন ও হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল হোসেন গংরা। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে আজ তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন সেই কামাল হোসেন গং। তিনি নেতা মেনেছেন এমন একজনকে (তারেক রহমান) যিনি পলাতক, মানিলন্ডারিং ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দন্ডিত আসামি। বিএনপির সেই পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক জিয়ার অধীনেই ড. কামাল হোসেন গং ঐক্য করেছেন আরও কিছু খুচরা আধুলিকে সঙ্গে নিয়ে। মুখে নীতির কথা বলে আবার খুনী ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। বিএনপির মরা গাঙ্গে যোগ দিয়ে ড. কামাল, রব-মান্নারা কী করতে চান? ওই খুনীদের তো আর বাংলার মানুষ চায় না।

বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করায় ড. কামাল হোসেনকে বাহবা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (ড. কামাল) আমাদের দল (আওয়ামী লীগ) ছেড়ে চলে গিয়ে, নৌকা থেকে নেমে এখন ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন। যে ধানের শীষে শীষ নাই, চিটা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। তাদের সঙ্গে তিনি হাত মিলিয়েছেন। খুনীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। অবশ্য এটা তিনি করতে পারেন। কারণ ড. কামাল হোসেনও কালো টাকা সাদা করেছেন। খালেদা জিয়া-তারেক রহমানও কালো টাকা সাদা করেছেন। প্রবাদ আছে- ‘রতনে রতন চেনে, শিয়াল চেনে কচু’। জিয়া পরিবারকে ‘খুনী পরিবার’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড, ২১ আগস্টের হত্যাকান্ড, অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ খুনের সঙ্গে এই পরিবারটি জড়িত। আসলে এটি হচ্ছে খুনী পরিবার। এরা শুধু খুন নয়, এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই।

আগামী নির্বাচনেও দেশের মানুষের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের মানুষ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে বলেই আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা জয় করেছি, স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। নৌকাই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পথ। নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাই। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে তার জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। আমরা মানুষের কাছে সেই ওয়াদা চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসমুদ্রের সামনে ওয়াদা চাইলে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষ দু’হাত তুলে এবং গগণবিদারী স্লোগান দিয়ে নৌকাকে ভোট দেয়ার ওয়াদা করেন।

রবিবার বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিম-লীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নুর-ই আলম চৌধুরী লিটন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব এ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় মঞ্চে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সালমান এফ রহমান, চীফ হুইপ আসম ফিরোজ, সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীমসহ দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লাসহ জেলা-উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে হেলিকপ্টারযোগে মাওয়ায় দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এর মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। নেমেই মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন, এন-৮ মহাসড়কের ঢাকা-মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি পরিদর্শন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, মূল নদী শাসনের কাজ সংলগ্ন স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের শুভ উদ্বোধন এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এরপর পদ্মা সেতুর মাওয়া টোলপ্লাজা সংলগ্ন গোলচত্বরে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জাজিরা প্রান্তে গিয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। সবশেষ মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ শেষে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

মাদারীপুরের শিবচরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে পদ্মাপারে মানুষের মহোৎসবে রূপ নেয়। সকাল থেকে বাস, ট্রাক, লঞ্চ, ট্রলার, নৌকাসহ বিভিন্ন যানবাহনে লক্ষাধিক নর-নারীর বাঁধ ভাঙ্গা স্রোত ছিল প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের দিকে। হাজার হাজার নর-নারী বাদ্য-বাজনা ডঙ্কা বাজিয়ে আসতে থাকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে। রং বে-রঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে আসতে থাকেন সভাস্থলে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উৎসব ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখার জন্য মহিলাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এবং তাঁর বক্তৃতায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পদ্মাপাড় তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। তাদের একটাই কথা পদ্মাসেতু আর কোন কল্পকাহিনী নয়, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তব। সাধারণ মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিন্দুকদের মুখে ছাই ঢেলে দিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে।

প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকেই মাদারীপুর সদর, রাজৈর, কালকিনি, শিবচর, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, ফরিদপুর, ভাংগা, সদরপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক সভাস্থলে জড়ো হতে থাকে। দুপুর ১২টার মধ্যে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় জনসভাস্থল। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে বাদ্য বাজিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থল মাতিয়ে তোলেন। দুপুর একটার মধ্যে গোটা কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পদ্মা সেতুর অগ্রগতি পরিদর্শন ও চারটি প্রকল্প কাজের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সভামঞ্চে ওঠার আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা শুরু করেন।

বিএনপি-জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেনদের জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠনের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। এতিমের নামে টাকা এনে নিজেরা মেরে খেয়েছেন। এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার জন্য তাঁর বিচার হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এখন কারাগারে। যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, যারা এতিমের টাকা মেরে খায়- আজকে তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন নিজেকে যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী বলে পরিচয় দেন। এক সময় এই বিশেষণ আমরাই তাঁকে (ড. কামাল) দিয়েছিলাম। সেই কামাল হোসেন গং এবং তার সঙ্গে জুটেছে আরও কিছু খুচরা আধুলি। এরা সব মিলে ঐক্য করেছে। আমি কামাল হোসেন সাহেবকে বাহ্বা জানাই, যে তিনি ঐক্য করেছেন কাদের সঙ্গে? যিনি (ড. কামাল) বড় বড় কথা বলেন, জঙ্গী-সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন, আর যে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত- তাদের সঙ্গেই আবার ড. কামাল হোসেন ঐক্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ড. কামাল হোসেন নেতা মেনেছেন কাকে? খালেদা জিয়া জেলে যাবার পর বিএনপিতে কী একজন নেতাও ছিলেন না যে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হতে পারেন? যে মানুষ মানিলন্ডারিংয়ের কারণে সাজাপ্রাপ্ত, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, যে পলাতক হিসেবে রয়ে গেছে বিদেশে- তাকেই বানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন! আর সেই চেয়ারম্যানের অধীনে ড. কামাল হোসেন গংরা ঐক্য করেছেন! বড় বড় নীতির কথা বলেন যারা, তারাই আজ খুনীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। ওই খুনীদের তো বাংলার মানুষ চায় না।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে যেয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট। আবার ২০১৫ সালেও শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি, মানুষ ভোট দিয়েছে নৌকা মার্কায়। কারণ মানুষ জানে নৌকা মার্কা মানে উন্নয়ন, নৌকা মানে উন্নতি, শিক্ষা, দেশের মানুষের উন্নয়ন। নৌকা মার্কায় ভোট দেয়া মানেই মানুষ উন্নত জীবন পাবে, পেটভরে ভাত খাবে, লেখাপড়া শিখবে, নতুনভাবে জীবনযাপন করবে, দেশের উন্নয়ন হবে। এ কারণেই দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি, নৌকাকে ভোট দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজ সেই বিএনপির মরা গাঙ্গে যোগ দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান, আসম আবদুর রবরা। তারা কী করতে পারবে? তারা কী করতে চান? বাংলাদেশের উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। আজ বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজকে দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, জিনিসপত্রের দাম সকলের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। জাতির পিতা যেখানে স্বল্পোন্নত দেশ রেখে গিয়েছিলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজকে বাংলাদেশে রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্ব যখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোলমডেল বলে, সেখানে এরা উন্নয়ন দেখে না। তাদের উন্নয়ন হলো দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন। এসব হচ্ছে তাদের কাছে উন্নয়ন। মানুষ পেটভরে ভাত খাবে, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে, নিজেরা ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে- এসব তাদের কাছে উন্নয়ন নয়।

বিডিআর হত্যাকা-ের সঙ্গেও বিএনপি-জামায়াত জোট জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বিডিআর ঘটনা ঘটল। ওইদিন তারেক জিয়া সকাল ছয়টা-সাতটার সময় তাঁর ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ফোন করে খালেদা জিয়াকে বলেছে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে। সবাই জানেন, খালেদা জিয়া দুপুর ১২টার আগে ঘুম থেকে উঠেন না। কিন্তু ওইদিন সকাল সাতটার মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে খালেদা জিয়া পালিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। কোথায় উনি গিয়েছিলেন? পালিয়ে যাওয়ার পরই বিডিআরে হত্যাকা- ঘটে। এই হত্যাকা- ঘটানোর পেছনে ওই বিএনপি-জামায়াতেরও হাত ছিল। বিডিআরের ৫৭ জন সেনা অফিসার মারা গেছেন, তার মধ্যে মহাপরিচালকসহ ৩৩ জনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে তারা যে জড়িত এতে কোন সন্দেহ নেই। নইলে খালেদা জিয়া কেন ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে সকাল সাতটায় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন। এক মাসের মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে ফেরেন নাই। সেই জবাব একদিন খালেদা জিয়াকে দিতে হবে।

জিয়া পরিবারকে ‘খুনী পরিবার’ হিসেবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না করে খুনীদের বিদেশী দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে জেনারেল জিয়া। ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সঙ্গে বেইমান মোশতাকের সঙ্গে জিয়াউর রহমানও জড়িত। আসলে এই পরিবারটিই খুনী পরিবার, এতে কোন সন্দেহ নেই। ওই খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছিল। আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যার আলামত না রেখে বিচার যাতে না হয় সেজন্য জজ মিয়ার নাটক করেছে।

তিনি বলেন, ওরা তো খুনী। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরও এই দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন ও হত্যাকা- চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তাদের অপকর্মের কারণেই দেশে ইমাজেন্সি জারি হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে তারা অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে। বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসে পাঁচশ’র মতো মানুষ পুড়ে মারা গেছে। হাজার হাজার গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। লঞ্চ-ট্রেনে আগুন দেয়। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার হয়ে যারা এখনও বেঁচে আছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরা শুধু মানুষ খুনই নয়, এরা পারে না এমন কোন কাজ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই তারেক জিয়া আজকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে, সেই বিচারে তারা সাজা পেয়েছে। আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, গ্রেনেড হামলার বিচারও আজকে হয়েছে। আজ সেই খুনের মামলার আসামি তারা। বিএনপি-জামায়াত এক জোট। একাত্তর সালে জামায়াত এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এরা যখনই সুযোগ পায় তখনই মানুষকে হত্যা করে। শুধু খুন করা নয়, বিএনপির আমলে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিপুল পরিমাণ দেশের সম্পদ তারা বিদেশে পাচার করেছে। তারেক জিয়া ও কোকোর পাচারকৃত অর্থ সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রে ধরা পড়েছে। আমরা সেই পাচারকৃত অর্থ কিছুটা দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। এমন খুনী-সন্ত্রাসী-জঙ্গী-অর্থ পাচারকারীদের সঙ্গে আজ ড. কামাল হোসেন সাহেবরা ঐক্য করেন!

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সারাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছি। দেশের জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে, সারাদেশের উন্নয়ন হয়েছে। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাই তাঁর স্বপ্ন অনুযায়ী দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যার শুভফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আজ সারাদেশ ইন্টারনেট সংযোগের আওতায়। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিয়েছি। সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের জন্য আমরা গৃহ নির্মাণ ও খাস জমি দিচ্ছি। দুই কোটি কৃষককে কার্ডের মাধ্যকে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। এক কোটি কৃষক ১০টায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে পেরেছে। বর্গাচাষীদের মধ্যে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ দিয়ে দিচ্ছি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য সারাদেশে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমরা চাই দেশের মানুষ এগিয়ে যাক। এছাড়া আমরা আগামী একশ বছরের জন্য ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ ঘোষণা করেছি। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। যখন আমরা সরকার গঠন করি তখন বাংলাদেশে ছিল বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। আজ আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুত জ্বালব এই ওয়াদা দিয়ে আজ ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করেছি। আজ ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুত পাচ্ছে। যেখানে গ্রিডলাইন নেই, সেখানে সোলার প্যানেল করে দিচ্ছি। সেই সঙ্গে সঙ্গে আমরা পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র করে দিচ্ছি। ভারত থেকে বিদ্যুত ক্রয় করছি। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে দেশের কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না। সব ঘর আলোকিত হবে। আওয়ামী লীগ সেটা করবে। কারণ আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের কোন মানুষ অভুক্ত থাকবে না। কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না, কোন মানুষ রোগে ভুগবে না। আমরা প্রত্যেকটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করব। অনেক বাধা অতিক্রম করে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। আগামীতে সরকারের আসতে পারলে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করব ইনশা আল্লাহ। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন চলে যাবে বরিশাল হয়ে সেই পায়রা বন্দর পর্যন্ত। দক্ষিণাঞ্চলেও রেললাইন চলবে। আর এক পদ্মা সেতুর মধ্যে দিয়েই মাদারীপুর, শরিয়তপুর, শিবচরসহ সব এলাকা উন্নত হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে আরও উন্নত হবে। তিনি বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষ ভাল থাকুক, তাদের জীবন উন্নত হোক সেটাই আমি চাই। আমার বাবা এদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই এ দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলব।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাত নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজ উদ্বোধন করেছিলেন। পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪টি খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জনসভায় জানান, ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ৬০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন