মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আইয়ুব বাচ্চু

কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ অক্টোবর) বাদ আসর ৪টা ৩৭ মিনিটে চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে হাজার হাজার মানুষের ঢলে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চৈতন্যগলি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন রুপালী গিটারের এ যাদুকর।

‘এই রূপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো দূরে বহুদূরে’-গানে গানে এই কথা বলে যাওয়া মানুষটা সত্যিই চিরতরে পাড়ি জমালেন ওপারে, শায়িত হলেন সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে। অশ্রুভেজা চোখে কম্পিত হাতে তাকে মাটির ঠিকানায় রেখে আসেন পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনেরা। সঙ্গে ছিল হাজার হাজার চট্টগ্রামবাসী।

বাচ্চুর শেষ জানাজায় অংশ নেয়ার জন্য সেখানে নামে মানুষের ঢল। হাজারো মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় এই শিল্পীকে বিদায় জানাতে। জানাজার আগে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ রাখা হয়েছিল মসজিদের মাঠেই। সে সময় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানায়।

গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে আহনাফ তাজোয়ার কানাডা থেকে আর মেয়ে ফাইরুজ সাফরা রাত দেড়টায় অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। যোখানে শব হিমঘরে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ রাখা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার।

শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নেয়া হয় আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ। ইউএস বাংলার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ শহরে। চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এছাড়া হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকেন চট্টগ্রামের এই কৃতী সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার জন্য।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। তার মৃত্যুতে গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মানুষেরাও এই বরেণ্য শিল্পীর প্রয়াণে শোকাহত।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


বিনোদন ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন