খালেদা জিয়ার সাজাবৃদ্ধি চেয়ে শুনানি: দুদক আইনজীবী

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি আজ (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি চলছে। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে খালেদা জিয়ার সাজাবৃদ্ধি চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

তিনি শুনানিতে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় যাবজ্জীবন সাজা দেয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী। উপস্থিত ছিলেন আবদুর রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মো. ফারুক হোসেন প্রমুখ।

৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্র“য়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্র“য়ারি তারা এ আবেদন করেন। আগামী ৩১ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অর্থের উৎসের বিষয় পরিষ্কার হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চেয়ে একটি আবেদনের শুনানি আজ শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন।

ট্রাস্টের ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা কুয়েতের আমীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার জন্য এতিমখানা করতে দিয়েছেন বলে খালেদা জিয়ার পক্ষে দাবি করা হয়েছে। অপরদিকে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ওই অর্থ এসেছে সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে। শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এডিশনাল এভিডেন্সের জন্য কুয়েতের আমীর যে অর্থ পাঠিয়েছেন এটা প্রমাণের জন্য যে ব্যাংকের মাধ্যমে (সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক) অর্থ পাঠানো হয়েছে তার কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ৪২৮ ধারা অনুযায়ী আপিলেট কোর্টও প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে পারেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন রেফারেন্স দেখান। তারা বলেন, এই মামলার অর্থের উৎস পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অর্থের উৎস পাওয়া গেলে মামলার মূল বিবেচ্য বিষয় ট্রাস্টের অর্থ পাবলিক ফান্ড না প্রাইভেট ফান্ড তা পরিষ্কার হতো।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন