‘এই হলেন পুলিশ মা অর্চনা!’

প্রতিদিনের মতো থানায় কাজ করছিলেন ঝাঁসি পুলিশের মহিলা কনস্টেবল অর্চনা জয়ন্ত। তার ছয় মাস বয়সী শিশু অনিকা ঘুমিয়ে পড়েছিল তার ডেস্কের উপরেই। এই সময়ে তোলা একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করেন তিনি। এই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় টুইটারসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। এখন পুরো উত্তরপ্রদেশ তাকে এখন ‘মাদার কপ’ নামেই চেনে। শুধু উত্তরপ্রদেশই নয়, গোটা দেশে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অর্চনার উর্দ্ধতন অফিসারেরা এই ঘটনা দেখার পর কর্মনিষ্ঠার জন্য তাকে ১০০০ টাকা পুরষ্কার দেন। ছবিটি এতখানিই ছড়িয়ে পড়ে যে উত্তর প্রদেশের পুলিশ প্রধান টুইটারে জানান, তিনি পুলিশ স্টেশনে ‘ক্রেচ (ডে-কেয়ার) শুরু করার চেষ্টা করছেন’। উত্তর প্রদেশের একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা রাহুল শ্রীবাস্তব টুইট করেছেন, ‘এই হলেন পুলিশ মা অর্চনা!’ ঝাঁসির কোতয়ালিতে পোস্টেড তিনি। মাতৃত্ব ও কাজ একই সঙ্গে সামাল দিচ্ছেন! অর্চনা স্যালুট পাওয়ার যোগ্য!’

অনেকেই টুইটারে বলেন, পুলিশের অবশ্যই উচিৎ কর্মরত পুলিশ মা ও বাচ্চাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া। বিশেষ করে যাদের অল্পবয়সী শিশু রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, সাহসী এই মাকে সেলাম! আবার অন্যরা বলেন, পুলিশে এই মুহূর্তে নানা সংস্কারের প্রয়োজন।

অর্চনাকে একবিংশ শতাব্দীর যোগ্য মহিলা বলে উল্লেখ করে উত্তর প্রদেশের পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল ওম প্রকাশ সিং বলেন, “সকালেই অর্চনার সঙ্গে কথা হয়, তাকে বাড়ির কাছে আগ্রায় বদলির কথা হয়েছে। এই বাচ্চাটি আমাদের ঝাঁসি পুলিশ স্টেশন আলো করে রাখত, আমাদের প্রতিটি পুলিশ লাইনে ক্রেচ তৈরি করতেও অনুপ্রাণিত করেছে বাচ্চাটিই।” আগ্রার বাসিন্দা অর্চনা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করার পর ২০১৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দুই সন্তান, ১০ বছর বয়সী কনক ও ছয় মাসের শিশু অনিকার মা। তার স্বামী হরিয়ানার গুরগাওতে একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থায় কাজ করেন। ঝাঁসিতে পোস্টিং হওয়ায় সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। পরিবার-পরিজন কাছে না থাকায় সন্তানকে দেখভালের বিষয়টি পুরোপুরি তার উপরই। আবার পুলিশের মতো টাইট সিডিউলের একটি কাজ। ফলে দুটো সামলানো অর্চনার কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্চনা বলেন, “সমস্যা তো হয়ই। কিন্তু আমার কাছে দু’টোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের দেখাশোনাও করি।” তাই তিনি যখন কাজে আসেন সঙ্গে নিয়ে আসেন অনিকাকেও। যাতে অনিকার দেখভাল এবং থানার কাজকর্ম একই সঙ্গে সামলানো যায়।

সবসময় তো থানায় থাকা সম্ভব হয় না, তা হলে? অর্চনা হেসে জানান, এ কাজে তো বাইরে যেতেই হয়। কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায় ফিরে আসতে। তখন অনিকাকে সামাল দেন তারই সহকর্মীরা। তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় ইমারজেন্সিতে ডাকা হয়। তখন উপায় থাকে না। অনিকাকে সঙ্গে নিয়েই থানায় চলে আসি। ওখানেই ওকে ঘুম পাড়ানো, খাওয়ানো সব কিছুই করাতে হয়।” অর্চনা জানান, তিনি আগ্রাতে ট্রান্সফারের জন্য আবেদন করেছেন। ওখানে গেলে অনিকাকে তার পরিবার দেখাশোনা করতে পারবে। আর তার পক্ষেও ভাল ভাবে কাজ করা সম্ভব হবে। অর্চনার এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারাও তার প্রশংসা করেছেন। ডিআইজি সুভাষ সিংহ বাঘেল অর্চনাকে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণাও করেছেন।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন