আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিলে পুনরায় সরকার গঠন করবো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গণভবনের সংলাপের ফলাফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী বার্তা দেন, শোনার জন্য দেশবাসী যখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল; তখন আজ আহূত সেই সংবাদ সম্মেলন ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিলে পুনরায় সরকার গঠন করবো, না দিলেও আফসোস নেই। তবে যারাই ক্ষমতায় আসুক, উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। কোন সংঘাত ছাড়াই প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে সমুদ্র বিজয় এবং ভারতের সাথে ছিটমহলসহ বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২৪টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গণভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলে এই সংলাপ শুরু হয়। ২৪টি রাজনৈতিক দলের সাথে এ সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

রাজনৈতিক দলগুলো হলো, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ), বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট পার্টি (বিএসডিপি), বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্ট, ন্যাপ ভাসানি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ), যুক্তফ্রন্ট, গণফ্রন্ট, প্রগতিশীল জোট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ), জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), বাংলাদেশ সত্যবার্তা আন্দোলন, ঐক্য-ন্যাপ, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি), বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট, তৃণমূল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি (জেএসপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

সংলাপ শেষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের কাছে সাত দফা তুলে ধরেছে ২৪ দল। সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকারের কোন দায়বদ্ধতা থাকে না। তাই নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হয়।

সংলাপ শেষে গণভবনে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংলাপে অংশ নিয়েছেন, এটা বিরল ঘটনা। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এমন সংলাপ নজিরবিহীন। এসময় নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করবে তাই প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন স্থাগিত করা হয়েছে বলে জানান কাদের। গণভবনের সংলাপের ফলাফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী বার্তা দেন, শোনার জন্য দেশবাসী যখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল; তখন গতরাতেই সেই সংবাদ সম্মেলন ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করা হয়েছে। গণভবনে ধারাবাহিক সংলাপের ফলাফল দেশবাসীকে জানানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের পর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য জানান। বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন। কিন্তু গতরাতে সে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম হেলাল গতকাল রাতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, অনিবার্য কারণবশত বৃহস্পতিবার আহূত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।

মূলতঃ গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গত কয়েকদিনের সংলাপে যে আলোচনা হয়েছে তার সার সংক্ষেপ ফলাফল ও সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সংলাপ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেয়ার কথা ছিল তার। পহেলা নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং গত ২ নভেম্বর অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ দলের সঙ্গে এবং সোমবার জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। ৫ নভেম্বর এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে সংলাপ করেন। গত মঙ্গলবার গণভবনে দুপুর ২টায় ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে আলোচনা হয়। গতকাল বুধবার গণভবনে বেলা ১১টায় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় স্বল্প পরিসরে আলোচনা হয়। আবার নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান আরজুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে কী বার্তা দেন তা শোনার জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন