প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন এরশাদ

আসন বণ্টন নিয়ে কথা বলার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিকাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত এ চিঠি পৌঁছে দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সুনীল শুভ রায় এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সময় দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘মাত্র তো চিঠি দিলাম। আশা করছি খুব দ্রুত জাপা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানানো হয়, শনিবার বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে সুনীল শুভ রায়ের থেকে চিঠি গ্রহণ করেন ওয়াবদুল কদের।

মূলত আসন বণ্টনে সমঝোতার বিষয়ে বৈঠক করা ও দ্রুততম সময়ে আসন বণ্টন সম্পন্ন করার বিষয়টি চিঠিতে জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে বড় জোট গঠন করা হলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী জোটের শরিকদের সর্বোচ্চ ৭০টি আসনে ছাড় দিতে পারে দলটি। ইতিমধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও গণমাধ্যমকে এমনটিই জানিয়েছেন।

জানা গেছে, জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন দেবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রতিদিনই জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সাথে বৈঠক করে আসছে। ঐক্যফ্রন্ট কোন আসনে কেমন প্রার্থী দেয় সেদিকে আলাদাভাবে নজর রাখছে আওয়ামী লীগ ও শরীকদলগুলো। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মহাজোটের শরীকদলগুলোর প্রত্যেক প্রার্থীকে সামাজিক অবস্থা, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যপ্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিক চেকআপের জন্য সিএমএইচে ভর্তি হয়েছেন। তিনি ফিরে আসার পর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করবেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তখন আসন ভাগাভাগি নিয়েও চূড়ান্ত বৈঠক হবে।

তবে দলের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। আসন ভাগাভাগির বিষয়ে মহাজোটের সাথে জাতীয় পার্টির এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মহাজোটের শরীকরা সবাই ঐক্যফ্রন্টের দিকে নজর রেখে প্রার্থীতা দেওয়ার বিষয়ে এগুচ্ছে।

এ সম্পর্কে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই দলের চেয়ারম্যান চূড়ান্ত বৈঠকে বসবেন। এদিকে, গত অধিবেশনে প্রার্থীতার বিষয় নিয়ে এরশাদ, রওশন এরশাদ আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, জাতীয় পার্টিকে ৪৬টি আসন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন