মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’

অবশেষে দশের্কর কাছে পৌঁছে গেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাদামাটা জীবনের অসাধারণ গল্প নিয়ে নিমির্ত চলচ্চিত্র ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’। রেজাউর রহমান পিপলু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, বøকবাস্টার সিনেমাস, মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে প্রদশির্ত হচ্ছে। মুক্তির পরই শেখ হাসিনার অগণিত ভক্ত প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমায় চলচ্চিত্রটি দেখতে। চলচ্চিত্রটি দেখে অনেকেই মুগ্ধতার পাশাপাশি নিমার্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এমন একটি ভিন্নধারার উদ্যোগ নেয়ার জন্য। কেউ কেউ নীরবে কেঁদেছেন। আবার সাদামাটা শেখ হাসিনাকে দেখে বিস্মিত হয়েছেন। অনেকেই আবার পরপর দুই বার দেখেছেন বলেও জানালেন।

জানা গেছে, দশর্ক চাহিদার কারণে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন পাঁচটি করে প্রদশর্নীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া মধুুমিতায় প্রতিদিন চারটি এবং বøকবাস্টার সিনেমাসে দুটি করে প্রদশর্নী চলবে। চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনেও প্রতিদিন দুটি করে প্রদশর্নী হবে।

শুধু দশর্কমহলেই নয়, সুধীমহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে চলচ্চিত্রটি। মুক্তির আগে চলচ্চিত্রটির তিনটি বিশেষ প্রদশর্নীর আয়োজন করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসাচর্ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) ও অ্যাপেল বক্স ফিল্মস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও রাতের দুটি প্রিমিয়ার শোতে আমন্ত্রিত অতিথিরা চলচ্চিত্রটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের পক্ষে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে ছিলেন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। এছাড়া মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নিমার্তা, ছোট-বড় পদার্র অভিনেতা-অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র ও গানের মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন।

চলচ্চিত্রটি সম্পকের্ অথর্মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এটা শুধু শেখ হাসিনার ছবি নয়। এটি চমৎকার একটি ছবি ও গল্প। একটি মানুষের বেড়ে ওঠা, জীবনের বিভিন্ন দিক ছবিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমার এই সত্তর বছর বয়সে পদার্য় যা কিছু দেখেছি, চলচ্চিত্রটি দেখার মতো অভিজ্ঞতা আমি পাইনি। এটা অসাধারণ একটি বায়োপিক।’

তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, একজন নেত্রী ও একজন যোগ্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে ওঠার এই পথটা যে কত সংগ্রাম, কত জটিল, কত কঠিন সেটাই ফুটে উঠেছে। মানুষ এ ছবিটি দেখলে সারারাত ঘুমাতে পারার কথা নয়।

‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ চলচ্চিত্রের আবহসংগীতের কাজ করেছেন ভারতের দেবজ্যোতি মিশ্র। তিনিও প্রিমিয়ার শোতে ছিলেন। সবশেষে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেক বেশি মানুষের কাছে ছবিটি পৌঁছে যাওয়া দরকার। ছবিটি দেখার ব্যাপারে সবাইকে আপনারা আহŸান করুন। এ ধরনের একটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য পিপলুকে ধন্যবাদ।’

চলচ্চিত্রের নিমার্তা পিপলু খান বলেন, ‘এটা দেখার জন্য পলিটিক্যাল হওয়ার দরকার নেই। এটি দেখার জন্য শেখ হাসিনার ফ্যান বা সমথর্ক হওয়ার দরকার নেই। ছবিটি সবার দেখা দরকার। ছবির মধ্যে আমি আমার দেশটাকে খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমি সেটাই খুঁজে পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সিনেমা নিমাের্ণর অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে পিপলু খান বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী রাজি হলেন আমাদের সময় দেয়ার তখন থেকেই আমি চেষ্টা করেছি সাদামাটা একটা উপস্থাপনের। আমার মাথায় ছিলেন ব্যক্তি শেখ হাসিনা। তিনি কী পছন্দ করেন, কী খেতে ভালোবাসেন, কী ধরনের শাড়ি তিনি পছন্দ করেন? ছেলেমেয়ে ও নাতিদের সঙ্গে কীভাবে সময় কাটান, তার বোনের সঙ্গে রসায়নটা কেমন, কেমন তার জীবনযাপন? স্বজন হারানোর ভাবনা তাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, কীভাবে কেটেছে তার নিবাির্সত জীবনের দিনগুলো- এইসব জানতে চেয়েছিলাম।

উল্লেখ্য, সিআরআই ও অ্যাপেল বক্স নামের দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রযোজনায় নিমির্ত হয়েছে ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। এখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বয়ানে তাদের পরিবারের নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পিপলু।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


বিনোদন ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন