প্রার্থী বাছাইয়ে ঘাম ঝরছে : আ. লীগ শরিকদের ৬০ আসন

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা। পাশাপাশি জোটের শরিক ও মহাজোটের মিত্রদের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ১২টি আসন, জাতীয় পার্টির জন্য ৩১টি, যুক্তফ্রন্ট ৮টি ও ইসলামিদল ৫টি আসন পাচ্ছে। সব মিলিয়ে ৫৫ থেকে ৬০টি আসন। তবে চাহিদার আলোকে আসন না পাওয়ায় এখনো জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয়নি আওয়ামী লীগের। এছাড়া ১৪ দলের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি দরকষাকষি করছে আরো বেশি আসন পাবার জন্য।

গতকাল জাতীয় পার্টি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, শরিকদের জন্য ৭০টির বেশি আসন ছাড়া হবে না। আর মহাজোটের প্রার্থী তালিকা রোববার-সোমবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। তবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আজ প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। সব ঠিক থাকলে সোমবার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর আগে আজ জাতীয় পার্টির সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করবে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির মঙ্গে কয়েকটি আসন নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে আওয়ামী লীগের। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য ঢাকা-১৭, সাতক্ষীরা-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসন চাচ্ছে জাতীয় পার্টি। ঢাকা-১৭ আসনের বিষয়ে ইতিবাচক আওয়ামী লীগ। এছাড়া ঢাকা-৫, ১৩,১৮ আসনও দাবি করেছে জাপা। ঢাকায় বর্তমানে ৩জন এমপি জাপার। ঢাকা-১ সালমা ইসলাম, ঢাকা-৪ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশিদ। তাই এরশাদ বাদে অন্য কারো জন্য আসন ছাড় দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।

তবে ঢাকা-১৩ মোহাম্মদপুর আসনের বর্তমান এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানক এবার মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ছেন সেজন্য এখানে জাপার প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জাপার একমাত্র কাউন্সিলর শহিদুল ইসলামকে, আর ঢাকা-৫ আসনে বর্তমান এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা বয়সের কারণে বাদ পড়তে পারেন তাই এখানে প্রার্থী আরেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার মীর আব্দুস সবুর আসুদ। স্থানীয় ভোটার বেশি হবার কারণে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন আসুদ। আর সমীকরণে মিলে গেলে জিএম কাদের ঢাকা-১৮তে দেখা যেতে পারে। তবে সম্ভাবনা কম। লালমনিরহাটের একটি আসনে দেখা যেতে পারে তাকে।

এদিকে ফেনী-৩ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন নিশ্চিত। এছাড়া জাপার বর্তমান এমপিদের ছাড়া অন্য কারো মনোনয়ন পাবার সম্ভাবনা নেই। বরং এর থেকে বাদ পড়বেন কেউ কেউ। নীলফামারি-৪ এ শওকত চৌধুরী, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রত্মা, ঢাকা-১ সালমা ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন খোকা, চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অথবা চট্টগ্রম-৬ জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর আসনে প্রার্থী দিতে চায় আওয়ামী লীগ।

জাসদে হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের বিষয়টি চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। বগুড়ায় তার দলের রেজাউল করিম তানসেনের বদলে আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা আছে। তবে আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে জাসদ। এর বাইরে ঢাকা-৫ ও ময়মনসিংহ-৭ আসনটি পাবার জন্য চেষ্টা করছে তারা। কারণ ঢাকা-৫ এ এমপির পরিবর্তনের সম্ভাবনায় মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম ও ময়মনসিংহ-৭ এ বর্তমান জাতীয় পার্টির এমপি এম এ হান্নান মানবতাবিরোধী মামলায় কারাগারে থাকায় শফিকুল ইসলাম মিন্টুর মনোনয়ন নিশ্চিতে কাজ করছে জাসদ।

জাসদ অন্য অংশের সংসদ সদস্য আছেন দুজন- মঈনুদ্দিন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮) ও নাজমুল হক প্রধান (পঞ্চগড়-১)। নড়াইল-১ আসন থেকে জাসদের সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া মনোনয়নের প্রত্যাশা করছেন। ওয়ার্কার্স পার্টিকে পাঁচ আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন (ঢাকা-৮), সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা (রাজশাহী-২), মোস্তফা লুৎফুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), ইয়াসিন আলী (ঠাকুরগাঁও-৩) ও টিপু সুলতান (বরিশাল-৩)। আর নড়াইল-২ আসনে শেখ হাফিজুর রহমানের আসনে ক্রিকেটার মাশরাফির মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত আওয়ামী লীগে।

তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর চট্টগ্রাম-২ আসনটি মোটামুটি নিশ্চিত। দলের আরেক এমপি লক্ষীপুর-১ আসনে সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল। তিনি এখন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স নামে একটি জোটের কো-চেয়ারম্যান। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার তরীকত ফেডারেশন এই আসনে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের মালিক মো. আনোয়ার খানকে চাইছে। যদিও আনোয়ার খান রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। আর বর্তমান মহাসচিব রোজাউক হক চাদপুরীর জন্য কুমিল্লা-৮ আসনটি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এ আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন।

জাতীয় পার্টি-জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর আসন নিশ্চিত। জেপিতে আর আসন দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। তবে দলের মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলামের জন্য মাদারীপুর-৩ অথবা ঢাকা-১৮ আসনের জন্য চেষ্টা করছে দলটি। কিন্তু পাবার সম্ভাবনা নেই বলে সূত্র জানায়। জোটের প্রধান বিকল্পধারার সভাপতি বি চৌধুরী ঢাকা-৬ ও মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে ভোট করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি। বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান ঢাকা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের তিনটি আসনে ভোট করে শোচনীয় পরাজয়ের শিকার হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন তাঁরা বর্জন করেন।

এবার যুক্তফ্রন্ট আসন সমঝোতায় সবচেয়ে লাভবান হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের মহাজোটে যুক্ত হওয়া যুক্তফ্রন্ট ৮টি আসন পেতে পারে। এর মধ্যে বি চৌধুরী ঢাকা-১১ আসনে (বাড্ডা-বারিধারা), তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরী মুন্সিগঞ্জ-১ ও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান লক্ষীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এর বাইরে সিলেট-৬ আসনে সমশের মবিন চৌধুরী, সদ্য যুক্তফ্রন্টে আসা জাপার সাবেক দুই সাংসদ গোলাম সারোয়ার (মিলন) মানিকগঞ্জে ও গোলাম রেজা সাতক্ষীরায় এবং বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গাণি নীলফামারীতে মনোনয়ন পেতে পারে। এছাড়া জাকের পার্টি ফরিদপুরে ১টি ও ইসলামি ঐক্যজোটের মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি আসন পাবেন বলে নিশ্চিত।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন