ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকার অব্যহত রাখতে আহ্বান

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা চান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, ব্যবসাবান্ধব এ সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্বাচনে বর্তমান সরকারের বিজয় প্রত্যাশা করেছেন তারা।

বুধবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই'র আয়োজনে 'শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ' শীর্ষক এক ব্যবসায়ী সম্মেলনে এ মতামত তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ব্যবসায়ী নেতা অংশ নেন।

সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা চান। দেশে একটি নেতৃত্ব সমস্যা পাশ কাটিয়ে যেতে চায়, আরেকটি নেতৃত্ব আছে যারা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এগিয়ে চলার পথ মসৃণ করে। ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কাছে সমাধান পেয়েছেন, এজন্য তারা এ সরকারের ধারাবাহিকতা চান।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে একমত হয়ে তিনি বলেন, নতুন করে দেশকে গড়তে দুর্নীতিতে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ থাকলে কিংবা প্রশাসনে দুর্নীতি থাকলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, গত দশ বছর আওয়ামী লীগ সরকার থাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এতে সবাই লাভবান হয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে ব্যবসায়ীদের নিরপেক্ষভাবে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা কোন দল করেন বা আওয়ামী লীগ করেন কি-না তা কোনো দিন দেখেননি। গত দশ বছরে সবাই ব্যবসা করতে পেরেছেন। কেউ বলতে পারবেন না, কোনো ব্যবসায়ীকে হাওয়া ভবনের মতো কোথাও যেতে হয়েছে।

আইসিসি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের গত দশ বছরের অর্জন দেশে-বিদেশে প্রতিফলিত হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার দৃষ্টি দিয়েছে। আগামীতে আরও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসবে, তা ধারণা করা যায়। তবে নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখছে। দেশের উন্নয়নে অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আরও উন্নয়নের স্বার্থে আগামীতে এ সরকারের থাকা দরকার।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া জরুরি।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব নেন তখন ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এখন তা ২০ হাজার মেগাওয়াট। আগামী পাঁচ বছর দায়িত্ব পেলে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

এ. কে. আজাদ বলেন, দেশে প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প পথ নেই। সে জন্য দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে প্রায় ১০টির কাজ শেষ পর্যায়ে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে ইজেড বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে। এ জন্য বার বার শেখ হাসিনার সরকার দরকার।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দূর এগিয়েছে। গত দশ বছরে দেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দেশ এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। এই সরকারকে সমর্থন জানাতে ব্যবসায়ীরা একত্র হয়েছেন। আগামী দিনে এ সরকারকে দেখতে চান তারা।

তিনি বলেন, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকলে ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা তার সঙ্গে আছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত একটি পাতাল রেল স্থাপনের দাবি জানান।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আগামী দিনের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকারের গ্রহণ করা নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এর ব্যত্যয় হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবে না।

বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে এই সরকার আরেকবার দরকার। বর্তমান সরকার না থাকলে ব্যবসায়ীরা ভালো থাকতে পারবেন না। যে যেভাবে পারবেন এ সরকারের ধারাবাহিকতার জন্য কাজ করবেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, সব ব্যবসায়ী একই উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত হয়েছেন। তিনি সারাদেশের ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে থাকার আহ্বান জানান।

বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী বলেন, বিএসআরএম ৩০ টন থেকে এখন প্রতিদিন ৫ হাজার টন রড উৎপাদন করছে। ২০২১ সালে সাড়ে ৭ হাজার টন রড উৎপাদন করবে। এ উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার।

এসিআই'র চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের নীতিসহায়তার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন বলেন, এই সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধি ও শান্তির পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নেবেন।

এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান বর্তমান সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির জন্য ধন্যবাদ জানান।

এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, গত দশ বছরে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ খাতের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ অগ্রগতির ধারাবাহিকতা চান।

ফরেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশি ব্যবসায়ীরা এ দেশের উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চান।

আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও অটো-রিরোলিং ও স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোয়ার হোসেন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকায় এবং উন্নয়নের কারণে ইস্পাত উৎপাদন ও চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগামী দিনে স্টিল খাত তার সঙ্গে থাকবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে এবং ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানি লক্ষ্য অর্জন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু এ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন না। আরও অনেকবার নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন, 'এটি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু দিয়েছে সোনার বাংলা। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা হীরের বাংলা তৈরি করব।'

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি যাতে এগিয়ে যায় তার জন্য বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা চান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফলি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন, দক্ষতা ও বাস্তবায়নের কৌশলের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছে। গত দশ বছর আগের টু-জি থেকে আগামীতে ফাইভ-জিতে প্রবেশ করবে। এটা খুব সহজ কাজ নয়। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্য অর্জন হবে।

মাইক্রোসফটের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবীর মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে আরও প্রয়োজন।

সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এখন সব ব্যবসায়ী এক হয়েছেন। এই যাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

বেসিসের সভাপতি আলমাস কবীর বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ও ই-কমার্সে অনেক সাফল্য এসেছে। প্রান্তিক পর্যায়ে জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি হয়েছে। এই খাতে ৫ বিলিয়ন রফতানির লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে চলছেন ব্যবসায়ীরা।

লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে দেশে অস্থিরতা ছিল। বর্তমান সরকার ব্যবসার পরিবেশ ফিরেয়ে এনেছেন। তাই এ সরকারের ধারাবাহিকতার জন্য যা যা করা দরকার ব্যবসায়ীরা করবেন।

এ ছাড়াও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, আব্দুল মোনেম ইজেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইনুদ্দিন মোনেম, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফসহ পরিচালকরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


বাংলাদেশ ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন