সৌদির ইতিহাসে বৃহত্তম বাজেট

সৌদি আরবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।

২০১৯ অর্থবছরের জন্য সাড়ে ২৯ হাজার কোটি ডলারের (প্রায় ২৫ লাখ কোটি টাকা) বাজেট মঙ্গলবার ঘোষণা করেন তিনি। রাজস্ব ধরা হয়েছে ২৬ হাজার কোটি ডলার। ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার কোটি ডলার।

তেলের দাম কমতে থাকায় টানা ষষ্ঠ বছরের মতো ঘাটতি বাজেট ঘোষণা করল সৌদি আরব। সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে গত বছরের চেয়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবারের বাজেট। গত বছরের বাজেট ছিল ২৬ হাজার কোটি ডলার। খবর আরব নিউজ ও আলজাজিরার।

হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৪৪০-১৪৪১ সালের জন্য এ বাজেট ঘোষিত হয়েছে, যেটি ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে কার্যকর হয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষিত ভিশন-২০৩০ অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় রিয়াদ।

কিন্তু বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকারের কর বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পদক্ষেপের কারণে ভুগছে দেশটির নানা বাণিজ্যিক খাত।

বাজেট ঘোষণাকালে টেলিভিশন ভাষণে সৌদি বাদশাহ বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক সংস্কার, আর্থিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা অর্জন, স্বচ্ছতা বাড়ানো ও প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়ন ঘটাতে বদ্ধপরিকর।’

গত সেপ্টেম্বরে বাজেটপূর্ব বিবৃতিতে সৌদি সরকার জানিয়েছিল, তারা বেকারত্ব বিমোচন ও স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে ২০১৯ সালে ব্যয় ৭ শতাংশ বাড়াবে। সৌদি আরবে গত গ্রীষ্মে বেকারত্বের হার ছিল ১২ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাজেট ঘাটতি পূরণে রিজার্ভ থেকে শত শত কোটি ডলার উত্তোলন করেছে সৌদি আরব। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার ঋণ করেছে দেশটি।

অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকারি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে জিডিপির ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া ৫ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটির বাণিজ্যিক খাতগুলো।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভ্যাট থেকে এক হাজার ২০০ কোটি ডলার আয় করেছে।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন