আ'লীগের দখলে মাঠ, আজ থেকে সক্রিয় হবে বিএনপি

আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার জমে উঠেছে। প্রচারের মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নিয়মিতই অভিযোগ করা হচ্ছে, ভোটের মাঠে এখনও তাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। তারা অবশ্য ভিন্ন কৌশলে 'নীরব' প্রচার চালাচ্ছেন। সক্রিয় রয়েছেন ডিজিটাল মাধ্যমে। সরকারবিরোধী জোট নেতাদের অভিযোগ, সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বাধা এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে তারা মাঠে নামতে পারছেন না। তারা আশা করছেন, আজ সোমবার থেকে সেনাবাহিনী নির্বাচনী দায়িত্বে মাঠে নামলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। শেষ কয়েকটি দিন প্রচারে সক্রিয় থাকার জন্য তারা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক বিবৃতিতে ভোটের মাঠে সবার সমান সুযোগ তৈরির জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রচারের কৌশল হিসেবে টানা দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় সংঘটিত উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে সামনে নিয়ে এসেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। সেই ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আবারও ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে। সেইসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার সমর্থক নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এত দিন করেছে, ভোটের মাঠে সেগুলোই প্রচার করছে বিএনপি। তাদের মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার গত ১০ বছর দুঃশাসন, নির্যাতন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। এগুলো প্রচারের পাশাপাশি বিএনপি তাদের ভাষায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিও এবার প্রাধান্য দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ইস্যু- উন্নয়ন ও অতীতের সরকারের দুঃশাসন :আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এখন নির্বাচনের মাঠে। দল ও মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে তাদের সবাই একাট্টা। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে আওয়ামী লীগকে আবারও বিজয়ী করে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছে তারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তাদের এই নির্বাচনী তৎপরতা বেশ আগেই শুরু হয়েছে। জনমত জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই, প্রার্থী মনোনয়ন ও চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠেও তৎপর ছিলেন তারা। সে সময় নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন সবাই। আর প্রার্থী ঠিক করে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামার পর থেকে দল ও মহাজোট প্রার্থীদের পক্ষে সম্মিলিত প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন তারা।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও সর্বাত্মক প্রচারণায় নেমেছেন। যদিও রুটিন মাফিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কারণে গত দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রচারণায় তেমনভাবে যুক্ত হতে পারেননি তিনি। এর পরও এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলা-উপজেলায় নির্বাচনী জনসভা ও প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন তিনি।

নিজের নির্বাচনী আসন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় নির্বাচনী জনসভা ও কর্মিসভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম। এরপর ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানের নির্বাচনী জনসভা ও প্রচার কার্যক্রমে যোগ দিয়েছেন তিনি। সিলেট ও রংপুরে একাধিক জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সোমবার ঢাকায় আরেকটি জনসভার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া ব্যক্তিগত বাসভবন সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও ১০টি জেলার জনসভা ও নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন তিনি। সবখানেই প্রচারকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের টানা দুই মেয়াদের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন তুলে ধরেছেন। সব এলাকার আওয়ামী লীগ ও মহাজোট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টের নানা 'ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা' সম্পর্কেও দেশবাসীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জানা গেছে, দেশের ৩০০ আসনের প্রতিটিতে প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মী-সমর্থকদের সর্বাত্মক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবেও নির্বাচন পরিচালনার বিষয়টি কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য দলের মনোনয়ন পাননি এমন কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দিয়ে শক্তিশালী নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। দলের দু'জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে বেশ কিছু কেন্দ্রীয় নেতা এই তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। তারা প্রতিদিনই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে নির্বাচনের সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। বিভিন্ন স্থানের প্রার্থী ও জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রম সমন্বয় করছেন। প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন বিষয়ে নানা 'অপতৎপরতাও' তুলে ধরছেন, জবাব দিচ্ছেন বিভিন্ন সমালোচনার। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার টিম ও প্রচার-প্রকাশনা উপকমিটিও ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন আসনে প্রচারণায় নেমেছে। চলচ্চিত্র, নাট্য ও সঙ্গীত জগতের খ্যাতিমান তারকারাও এই প্রচারে যুক্ত হয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।

তবে দু-একটি ক্ষেত্রে 'বিদ্রোহী প্রার্থীরা' দলের প্রচার-প্রচারণায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কেন্দ্র থেকে নানা হুঁশিয়ারির পরও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী এখনও দল ও মহাজোট মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একাংশও গোপনে অথবা অনেকটা প্রকাশ্যেই তাদের সঙ্গে রয়েছে। ফলে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে ওই সব আসনের দল ও মহাজোট প্রার্থী এবং তাদের নেতাকর্মী-সমর্থকদের। অবশ্য নির্বাচনের আগেই এসব বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও আশা করছেন নির্বাচনী পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যথায় বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তাদের পক্ষাবলম্বনকারী নেতাদের দল থেকে 'আজীবন বহিস্কার'-এর আগাম হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলীকে সাময়িক বহিস্কার ও কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে। টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে আরও কিছু নেতাও দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন একই কারণে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এরই মধ্যে আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সারাদেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে, নৌকার পক্ষে জোয়ার উঠেছে। দেশের মানুষ নৌকাকেই বিজয়ী করবে। আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকালে একই আশাবাদের কথা জানিয়ে আসছেন। তার মতে, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক নৌকা ভাসতে ভাসতে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা টিমের অন্যতম সদস্য ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সমকালকে বলেছেন, তারা বেশ আগে থেকেই সর্বাত্মক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। দু-একটি ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও এই প্রচার-প্রচারণা সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।

বিএনপির ইস্যু- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি :নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে মাঠে নামতে না পারলেও কৌশলে প্রত্যেক ভোটারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন তারা। এ ছাড়া দেশের 'গণতন্ত্রহীন' অবস্থা, ব্যাংক থেকে শুরু করে প্রতিটি আর্থিক সেক্টরে দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দলীয়করণ, বিরোধী মত দলন ও বিরোধীদের নির্যাতনের কথা তারা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। বিএনপির একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সরকারের উন্নয়ন প্রচারের বিপরীতে গত এক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রের দুর্নীতি ও লুটপাটকে সামনে নিয়ে আসছেন।

ভোটারদের মধ্যে আবেগ তৈরির লক্ষ্যে এ প্রচারণাও জোরদার করা হয়েছে যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে ও মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, বিচার বিভাগে দলীয়করণ ঘটায় আইনিভাবে তার মুক্তি হচ্ছে না, তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।

একাধিক প্রার্থী সমকালকে জানান, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছেন না। হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের কারণে তারা নির্বাচনী শোডাউন থেকে সরে এসে প্রত্যেক ভোটারের কাছে আলাদাভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মোবাইলে খুদে বার্তা দিয়ে তারা তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক পৃথক কমিটি গঠন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার কর্মসূচি পালন করছেন প্রার্থীরা।

দেশের কয়েকটি আসনে সমান সুযোগে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারলেও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন বিএনপি প্রার্থীরা। বেশিরভাগ প্রার্থীই নির্বাচনী শোডাউন, পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট বিতরণ করতে পারেননি।

এসব প্রার্থী জানান, কী কারণে তারা প্রচারণায় নামতে পারেননি, তা জনগণ ও ভোটাররা জানেন। সারাদেশে গায়েবি মামলা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার, নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা এখন সবার মুখে মুখে। এটাকেও প্রচারণায় কাজে লাগাতে চাইছেন তারা। পাঁচ বছর পর ভোটের আমেজ থেকে বঞ্চিত করায় ভোটাররাই এখন ক্ষমতাসীনদের ওপর ক্ষুব্ধ- বললেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বকুল।

ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর গত শুক্রবার প্রথম গণসংযোগে নামতে পারেন তিনি। এর আগে তার ৭০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রচারণার মাইক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের দিয়ে পোস্টার লাগানোর চেষ্টা করা হলে তাদেরও গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় অনেকটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আসতে পারে- এমন প্রত্যাশায় তিনি মাঠে নামছেন। তিনি বলেন, সরকারের এমন বাধা দেওয়ার ঘটনায়ও তার এক ধরনের প্রচারণা হয়েছে।

বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী ও নেতাকর্মী জানান, তাদের দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর নামেই মামলা রয়েছে। নিজের এলাকা ছেড়ে যেসব এলাকায় তারা আত্মগোপনে রয়েছেন, সেসব স্থানেও তারা প্রচারণায় নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। ভোটের কাজে সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের সতর্কভাবে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে তারা ভোটের মাঠে সর্বাত্মক শক্তি ও কৌশল নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠবেন।

বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, এলাকায় ধানের শীষের গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তবে নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার কারণে তাদের কৌশলে প্রচারণায় থাকতে হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, একসময় জনগণ তাদের সব ছক ভেঙে চুরমার করে দেবে।

প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে বিএনপিতে প্রচার ও প্রচারণা উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কঠোর গোপনীয়তায় সরকারের বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রমের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অডিও-ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করছেন, যা ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একদিকে তাদের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে, আরেকদিকে প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই কঠিন বাস্তবতায়ও তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চান।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন