লাইসেন্সবিহীন ও নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার রোধে মনিটরিং

লাইসেন্সবিহীন ও নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ঠেকাতে মাঠে নামছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিশেষ মনিটরিং সেল। এ লক্ষ্যে অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সপ্তাহের ৫ দিন দুটি করে টিম বাজার মনিটরিং করে। সেখানে একটি টিম বাড়িয়ে এ ধরনের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি তদারকি করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোরশেদ শাহরিয়ার বলেন, কেউ যদি ঝুঁকিপূর্ণ এই জ্বালানি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করে এবং বিস্ফোরক পরিদফতরের লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে, তাহলে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পণ্য বিক্রি বাড়াতে কোম্পানিগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে যত্রতত্র ঝুঁকিপূর্ণ এই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। আর এলপিজির মতো দাহ্য পদার্থ মজুদের জন্য বিশেষ গুদামঘর থাকতে হবে। তা না হলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে কয়েক বছর ধরে আবাসিক ভবনে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে আবাসিক ভবনে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, খাবারের হোটেল ও চায়ের দোকানেও এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। চাহিদা বাড়ায় যেখানে-সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনা হচ্ছে।

বিস্ফোরক পরিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত চার বছরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি পাঁচগুণ বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানি করা হয় ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮টি। আর দেশে তৈরি করে বাজারজাত করা হয় ১১ লাখ ৪ হাজার ৩৪৫টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয় ৫২ লাখ ৮৯ হাজার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১ লাখ ৮৫ হাজার এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ লাখ। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার মজুদের জন্য বিস্ফোরক পরিদফতর থেকে সব মিলিয়ে মাত্র ৬ হাজার লাইসেন্স নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আবার লাইসেন্স নবায়ন করেননি।

অন্যদিকে বিম্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর অধীনে গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা-২০০৪-এর ৬৯ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া ১০টি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদ করা যাবে। তবে বিধির ৭০ ধারা অনুযায়ী, এসব সিলিন্ডার মজুদ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। আর এলপিজি স্থাপনা প্রাঙ্গণে ধূমপান, দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। এছাড়া মজুদ করা স্থানের কাছে আলো বা তাপের উৎস থাকা চলবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে চায়ের দোকানে চুলার পাশে মজুদ রেখে কিংবা সিগারেটের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার।

জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাজারে এখন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু এই সিলিন্ডার নিম্নমানের কি না, তা দেখার কেউ নেই। এজন্য ভোক্তা অধিদফতরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অধিদফতরকে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। পুরান ঢাকার চকবাজারের মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকার বড় দুটি সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে গ্যাস। এ সমস্যার কারণে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্টুরেন্টে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এতে স্থানীয়রা সব সময় অজানা আতঙ্কে থাকেন।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


আইন ও অপরাধ ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন