একনেকে ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ প্রকল্প অনুমোদন

‘আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’সহ ৭টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৬২২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ১১ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তিনি জানান, আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তরে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জি টু জি-এর আওতায় চীন সরকার ঋণ দেবে ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট ৫ হাজার ৪৫০ কোটি ৮ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রসঙ্গক্রমে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার রেলপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে যারা রেলকে অবহেলা করেছিলেন, তারা অন্যায় করেছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব রেলপথকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেন জানান তিনি।

অন্যান্যের মধ্যে বৈঠকে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৯১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকাই হচ্ছে ভারতীয় ঋণ এবং অবশিষ্ট ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

‘মাগুরা- শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

‘খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন ও অডিটরিয়াম নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

‘বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

‘কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ার চরঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর (মেম্বার পাড়া) থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত এলাকা ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় বাম তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হবে। চলতি বছরের মে থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।




  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত


রাজনীতি ক্যাটাগরির আরও খবর পড়ুন